ঢাকা , বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ , ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবাদ প্রকাশের জের সীমানা নিয়ে প্রশ্ন, পাইপলাইন উন্মুক্ত করেই জবাব তিতাসের

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-১১ ১৮:৪৩:২১
সংবাদ প্রকাশের জের সীমানা নিয়ে প্রশ্ন, পাইপলাইন উন্মুক্ত করেই জবাব তিতাসের সংবাদ প্রকাশের জের সীমানা নিয়ে প্রশ্ন, পাইপলাইন উন্মুক্ত করেই জবাব তিতাসের
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

সীমানা কোথায়-এ প্রশ্নের উত্তর নিয়ে ছিল বিভ্রান্তি। একদিকে ব্যক্তিগত স্থাপনা, অন্যদিকে তিতাস গ্যাসের পাইপলাইন। মাঝখানের জায়গাটি কার, সেটি নিয়েই তৈরি হয়েছিল বিরোধ। শেষ পর্যন্ত মাটি খুঁড়ে গ্যাসের পাইপলাইন উন্মুক্ত করেই সেই প্রশ্নের উত্তর দিল তিতাস গ্যাস। ঘটনাটি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জাংগালিয়া ইউনিয়নের আওড়াখালী বাজারসংলগ্ন কাউলিতা গ্রামের। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, তিতাস গ্যাসের অধিগ্রহণকৃত জমির ওপর সিমেন্টের খুঁটি, টিনের বেড়া, গোয়ালঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের গণমাধ্যমকর্মীরা সরেজমিনে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির নজরে আসে। এরপর তিতাসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শুধু নির্মাণকাজ বন্ধ করেননি; ‘ওপেন কার্ড’-এর মাধ্যমে পাইপলাইন উন্মুক্ত করে গ্যাসলাইনের প্রকৃত সীমানাও নির্ধারণ করেন।


তিতাস গ্যাসের লাইনম্যান মোস্তফা জানান, কালীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তিনি ঘটনাস্থলে যান। প্রথমে স্থানীয়দের মৌখিকভাবে গ্যাসলাইনের সীমানা দেখানো হয়েছিল। কিন্তু তা নিয়ে মতবিরোধ থাকায় পরে পাইপলাইন উন্মুক্ত করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। সীমানা চিহ্নিত হওয়ার পর গ্যাসলাইনের ওপর থাকা স্থাপনার অংশ সরিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে মৃত রশিদ ভূঁইয়ার স্ত্রী ছালেকা খাতুনের নির্মাণ করা সিমেন্টের খুঁটি ও টিনের সীমানার অংশ এবং মৃত গনি খানের ছেলে মো. মোস্তফা খানের নির্মাণ করা স্থাপনার অংশ রয়েছে। তিতাসের লাইনম্যান মোস্তফা বলেন, “তিতাস গ্যাস লাইনের ওপর কোনো স্থাপনা করা যাবে না। জায়গাটি সবসময় উন্মুক্ত রাখতে হবে।” স্থানীয়দের অভিযোগ, তিতাসের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা নির্মাণকাজে বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে কাজ চলছিল। এমনকি প্রতিবাদ করলে স্থানীয়দের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও গালাগালির অভিযোগও ওঠে। তবে বিষয়টি নিয়ে তিতাসের অবস্থান স্পষ্ট। তিতাস গ্যাস গাজীপুর অপারেশন ডিভিশনের ব্যবস্থাপক সাইফুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, “তিতাস গ্যাসের অধিগ্রহণকৃত জমি ও গ্যাসলাইন নিরাপদ রাখা আমাদের দায়িত্ব। বিষয়টি নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সরেজমিনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্যাসলাইনের ওপর থাকা স্থাপনা অপসারণ করে পাইপলাইন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতেও গ্যাসলাইনের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থে এ ধরনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি বলেন, গ্যাসলাইন রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরি মেরামতের স্বার্থে লাইনের ওপর কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা উচিত নয়।


এখন কাউলিতার সেই জায়গায় সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন হলো-আগে যেখানে সীমানা নিয়ে প্রশ্ন ছিল, সেখানে এখন মাটির নিচের পাইপলাইনই হয়ে উঠেছে সীমানার স্পষ্ট চিহ্ন। স্থানীয়দের স্বস্তি ফিরলেও তাদের প্রত্যাশা, এই সীমানা যেন আবার অস্পষ্ট না হয়। কারণ জরুরি সময়ে গ্যাসলাইন মেরামত কিংবা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জায়গাটি উন্মুক্ত থাকা জরুরি। কালীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের গণমাধ্যমকর্মীদের সংবাদ প্রকাশের পর তিতাসের এই পদক্ষেপ তাই শুধু কয়েকটি স্থাপনা সরানোর ঘটনা নয়; বরং একটি সীমানা নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তিরও অবসান। এখন দেখার বিষয়, চিহ্নিত সেই সীমানা ভবিষ্যতে কতটা সুরক্ষিত থাকে। ###


নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ